বুধবার ২৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বুধবার ২৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

রোজায় ডাব নাকি স্যালাইন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম

ফাইল ফটো

রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর ইফতারে কী পানীয় শরীরের জন্য বেশি উপকারী—ডাবের পানি, নাকি স্যালাইন? গরমের দিনে এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন স্যালাইন বা ডাবের পানি পান করলে শরীর সতেজ থাকে এবং পানিশূন্যতা দূর হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে প্রতিদিন নিয়ম করে এই দুই পানীয় গ্রহণ সবসময় নিরাপদ নাও হতে পারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়-এর আবাসিক চিকিৎসক ডা. আফসানা হক নয়নের মতে, ওরাল স্যালাইন বা ওআরএস মূলত ডায়রিয়া, বমি কিংবা অতিরিক্ত পানিশূন্যতার ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তৈরি। এতে নির্দিষ্ট মাত্রায় সোডিয়াম, গ্লুকোজ, পটাসিয়াম ও সাইট্রেইট থাকে, যা দ্রুত শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণে কার্যকর। তবে অপ্রয়োজনে প্রতিদিন স্যালাইন পান করলে অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরে জমে উচ্চ রক্তচাপ, ফোলাভাব এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে কিডনি রোগী বা যাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হয়, তাদের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ।

অন্যদিকে ডাবের পানি প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় হিসেবে পরিচিত। এতে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সামান্য সোডিয়াম ও প্রাকৃতিক চিনি থাকে। গরমে ঘাম ঝরার পর বা হালকা পানিশূন্যতায় এটি শরীরকে দ্রুত আর্দ্র করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের পর ডাবের পানি তরল ঘাটতি পূরণে উপকারী। তবে প্রতিদিন অতিরিক্ত ডাবের পানি পান করলে পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা কিডনি সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদেরও এর প্রাকৃতিক চিনি হিসাবের মধ্যে রাখতে হবে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ, সুস্থ মানুষের জন্য দৈনন্দিন পানীয় হিসেবে বিশুদ্ধ পানি সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। রোজায় ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত ধীরে ধীরে পর্যাপ্ত পানি পান করাই শরীরের পানিশূন্যতা এড়ানোর সেরা উপায়। মাঝেমধ্যে এক গ্লাস ডাবের পানি বা লেবুর শরবত গ্রহণ করা যেতে পারে, তবে স্যালাইন নিয়মিত পান করার প্রয়োজন নেই, যদি না চিকিৎসক পরামর্শ দেন।

অতিরিক্ত সোডিয়াম বা পটাসিয়াম শরীরে জমে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন ও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সচেতনভাবে পানীয় নির্বাচন করাই সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি। 

Link copied!