প্রকাশিত: ২৪ মে ২০২৬, ০৬:২৮ পিএম
দেশের দুইটি প্রযুক্তিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে ঘিরে ভিন্নধর্মী চিত্র সামনে এসেছে। একদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সাস্ট) নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, অন্যদিকে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), গাজীপুরে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বহিরাগত উপাচার্য। বিষয়টি নিয়ে ডুয়েট শিক্ষার্থীদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে।
সম্প্রতি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। শনিবার (২৩ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮৭-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তাকে এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক ডিন ছিলেন।
উপাচার্য হিসেবে তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা অবসরের তারিখ পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থানের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সাস্টে অভ্যন্তরীণ শিক্ষককে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
অন্যদিকে ডুয়েটে সম্প্রতি বহিরাগত উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ডুয়েট শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশের দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে। তাদের যুক্তি, ডুয়েটের একাডেমিক কাঠামো, আবাসিক ব্যবস্থা, ডিপ্লোমা পটভূমিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা বেশি।
এই দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল, অবস্থান কর্মসূচি, ব্লকেড ও “কমপ্লিট শাটডাউন” কর্মসূচিও পালন করেন। আন্দোলনের সময় “দাবি মোদের একটাই, ডুয়েট থেকে ভিসি চাই” স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস।
শিক্ষার্থীদের মতে, যেখানে সাস্ট নিজেদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ দিতে পারে, সেখানে ডুয়েটেও একই ধরনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাশিত ছিল। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তুলনামূলক আলোচনা দেখা গেছে।
