মঙ্গলবার ১৩, জানুয়ারি ২০২৬

মঙ্গলবার ১৩, জানুয়ারি ২০২৬ -- : -- --

শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যে কঠোর নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:১১ পিএম

 

বেসরকারি স্কুল ও কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ প্রকাশ করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে নীতিমালাটি প্রকাশের মাধ্যমে সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক নীতিমালা আরও স্বচ্ছ ও কঠোরভাবে নির্ধারণ করল।

 

নীতিমালার ২৪ নম্বর ধারায় শিক্ষকদের পেশাগত মানোন্নয়ন নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর তৃতীয় উপধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকরা কোনো ধরনের কোচিং বাণিজ্য বা নোটবুক নির্ভরতা থেকে বিরত থাকবেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ নির্দেশনা কার্যকর হলে এমপিওপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং নির্ভর ব্যবসায়িক প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

 

দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল—অনেক শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে যুক্ত হয়ে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত আর্থিক চাপে ফেলছেন। পরিবারগুলো শিক্ষা ব্যয়ের বোঝা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে সরকার ২০১২ সালে কোচিং বাণিজ্য নিষিদ্ধ করার নীতিমালা জারি করেছিল। তবে বাস্তবে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। এবার নতুন এমপিও নীতিমালায় কোচিং বাণিজ্য বিরোধী ধারা সংযোজন করায় বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন সবাই।

 

এ ছাড়া ২৪ নম্বর ধারার অন্যান্য দিকেও শিক্ষকদের পেশাদার আচরণ সম্পর্কে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথম উপধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষকদের অবশ্যই পাঠ্যক্রম, শিক্ষণ পদ্ধতি, পেশাগত শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে। দ্বিতীয় উপধারা অনুযায়ী, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে পারদর্শিতা অর্জন প্রয়োজন। চতুর্থ উপধারায় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও একাডেমিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। আর পঞ্চম উপধারায় ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডি প্রতিবছর শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন ও পুরস্কার প্রদানের নির্দেশনা দিয়েছে।

 

নীতিমালাটিকে শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কোচিং বাণিজ্যের লাগাম টেনে ধরার নির্দেশনা নীতিমালার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

Link copied!